বুধবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এই মূল্যবৃদ্ধির মাত্রা বেশ দুর্বল ছিল। প্রকৃতপক্ষে, সারাদিনের মধ্যে কেবল একটি প্রতিবেদনই উল্লেখযোগ্য ছিল—এবং সেটি হচ্ছে যুক্তরাজ্যের
বুধবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এই মূল্যবৃদ্ধির মাত্রা বেশ দুর্বল ছিল। প্রকৃতপক্ষে, সারাদিনের মধ্যে কেবল একটি প্রতিবেদনই উল্লেখযোগ্য ছিল—এবং সেটি হচ্ছে যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন। তবে, এই সপ্তাহের অন্যান্য সব প্রতিবেদনের তুলনায় এই প্রতিবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়ে 3.5%-এ পৌঁছেছে। মূল মুদ্রাস্ফীতির হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমতাবস্থায়, নভেম্বরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বৈঠকে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড সম্ভবত মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। আমাদের মতে, ট্রেডাররা এখনো এই বিষয়টি পুরোপুরিভাবে বিবেচনায় নেয়নি, তাই ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে, প্রতিবেদনটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিলে গতকাল পাউন্ডের মূল্য যতটা বৃদ্ধির কথা ছিল, সে তুলনায় এটির মূল্য বেশ সামান্যই বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি কঠোর করার ইঙ্গিত দেয়া সত্ত্বেও ইউরোর ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি। দৈনিক ও সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে দুটি সাইডওয়েজ চ্যানেল পাউন্ডের মূল্যের গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেল হিসেবে কাজ করছে; এই পেয়ারের মূল্য এসব চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে বাউন্স করায় আপার বাউন্ডারির দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সুতরাং, টেকনিক্যাল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বলা যায়, পাউন্ডের মূল্য 1.3650 বা তারও উপরের লেভেলে পৌঁছাতে পারে।

বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে চারটি ট্রেড সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, প্রথম সেল সিগন্যালটি ভুল প্রমাণিত হয়, তবে পরবর্তী তিনটি সিগন্যাল একই ধরনের ছিল এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। কিন্তু পাউন্ডের আরও মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার জন্য কোনো কারণ না থাকায়, লং পজিশনগুলো থেকে নতুন ট্রেডাররা কোনো মুনাফা করতে পারেনি।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের মাসব্যাপী বিদ্যমান নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তির কার্যকর সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের মূল্য উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে এবং এখন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হওয়ার দৃঢ় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ চার্টের টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন ডলারের ওভারবট কন্ডিশন—সবকিছুই GBP/USD-এর মূল্যবৃদ্ধির অনুকূলে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল হলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য গত দুইদিনে চতুর্থবারের মতো 1.3380–1.3386 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456–1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রে জবলেস ক্লেইমস সংক্রান্ত মোটামুটি গুরুত্বহীন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। ফলে, আজ আবারও এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।