বুধবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারেরও ব্যাপক দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছে, যা ফেডারেল রিজার্ভের বর্তমান অবস্থানের প্রেক্ষিতে বেশ যৌক্তিক। ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির ১২ জন সদস্যই মুদ্রানীতি কঠোর করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন—এমনটা মার্কেটের খুব কম ট্রেডারই প্রত্যাশা করেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে কেভিন ওয়ার্শ বলেন যে, ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রাস্ফীতিকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনবে; তাঁর এই বক্তব্য আগের মন্তব্যগুলোর চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরের ছিল। সংক্ষেপে, ওয়ার্শ ট্রেডারদের ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সেপ্টেম্বরের সুদের হার বৃদ্ধিই একমাত্র বা শেষ পদক্ষেপ হবে না। এ কারণেই মার্কিন ডলারের দর বাড়তে থাকে, যদিও ট্রেডাররা আগেই সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছিল (বা 'প্রাইস-ইন' করেছিল)। আমরা এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম যেখানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৌলিক প্রেক্ষাপট নাটকীয়ভাবে বদলে গিয়েছিল। আগে আমরা মধ্যমেয়াদে ইউরো ও পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রত্যাশা করেছিলাম কারণ ডলারের দর বৃদ্ধির মতো কোনো জোরালো কারণ তখন ছিল না; কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। মুদ্রাস্ফীতির হার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনার জন্য ফেডারেল রিজার্ভ যদি প্রয়োজনীয় সময় পর্যন্ত কঠোর আর্থিক নীতিমালা বজায় রাখে, তবে তা মার্কিন ডলারের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে আমূল বদলে দেবে।

বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে অন্তত একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। মার্কিন ট্রেডিং সেশনের সময়, এমনকি ফেডারেল রিজার্ভের ফলাফল প্রকাশের আগেই, এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য 1.3456–1.3476 রেঞ্জের নিচে কনসোলিডেট করেছিল। পরবর্তীতে, ফলাফল ঘোষণার পর এই পেয়ারের মূল্য সেই জোন থেকে বাউন্স করে। ফলে, নতুন ট্রেডাররা 'শর্ট পজিশন' ওপেন করার দুটি সুযোগ পেয়েছিলেন—যার মধ্যে দ্বিতীয়টি কার্যত নিশ্চিত লাভের সুযোগ ছিল। এছাড়া, রাতের বেলাতেও এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে এবং তা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় মার্কিন ডলার ও পাউন্ডের ক্ষেত্রে মৌলিক প্রেক্ষাপটের নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে, কারণ ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দেয়। এর ফলে, ২০২৬ সালে মার্কিন ডলারের সার্বিক পরিস্থিতি আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে।
বুধবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়ার উপর অবস্থান গ্রহণ করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3456–1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641, 1.3695, 1.3741। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, তবে বর্তমানে ট্রেডারদের কাছে এই বৈঠকের গুরুত্ব খুব একটা নেই বলে মনে হচ্ছে। আজ পাউন্ডের মূল্য কিছুটা পুনরুদ্ধার করতে পারে, কিন্তু এই পর্যায়ে পাউন্ড স্টার্লিংয়ের উল্লেখযোগ্য মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।