শুক্রবারে তুলনামূলকভাবে অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, এবং সেগুলোর ফলাফল ট্রেডারদের প্রভাবিত করবে সেই সম্ভাবনা কম। যুক্তরাজ্যে জিডিপি এবং শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, এবং ইউরোজোনে তেমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। একমাত্র যে প্রতিবেদনটি তাত্ত্বিকভাবে মার্কেটে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, তা হলো মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদনের ফলাফল আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনেকাংশে নির্ধারণ করবে, কিন্তু প্রকৃত ফলাফল যদি পূর্বাভাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, তবে ট্রেডারদের প্রতিক্রিয়া দেখানোর মতো কিছুই থাকবে না। আগস্ট মাসে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি 3.4%-এ পৌঁছানোর পূর্বাভাস ইতোমধ্যেই মার্কেটে মূল্যায়িত হয়েছে। সুতরাং, দিনের দ্বিতীয়ার্ধে অস্থিরতা হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে, কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা নেই — সবকিছু নির্ভর করছে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের ফলাফল কতটা চমক দেয় তার উপর।

শুক্রবার উল্লেখযোগ্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট হিসেবে ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে; তবে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকটি গতকালই অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাই ট্রেডাররা গতকালই প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে গেছে। গতকাল যেসব তথ্য তিনি উল্লেখ করেননি, আজ তিনি নতুন করে সেসব প্রকাশ করবেন—সেই সম্ভাবনা কম। ইসিবির অবস্থান বেশ স্পষ্ট: উচ্চ মূল্যস্ফীতির মোকাবিলায় তারা আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। এখন প্রশ্ন হলো, ফেডারেল রিজার্ভ এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত কি না।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও তেমন সন্তোষজনক নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আলোচনা হচ্ছে না; হরমুজ প্রণালী বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ইরানের সাথে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইরানকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার ব্যাপারে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে কেউ সমর্থন করেনি এবং এটি আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তাও অনিশ্চিত। সপ্তাহান্তে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, তবে ট্রেডাররা এ বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি।
চলতি সপ্তাহের শেষ দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের স্বাভাবিকের তুলনায় বাড়তি সক্রিয় মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে। আজ ইউরো 1.1584–1.1594 এবং পাউন্ড 1.3456–1.3476 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। ইউরো ও পাউন্ডের মূল্যের ডাউনওয়ার্ড কারেকশন সম্ভবত শেষ হয়ে গেছে বা শেষের কাছাকাছি রয়েছে, মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের ফলাফল হয় মার্কিন ডলারের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি বা তীব্র দরপতন ঘটাতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।