শুক্রবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, এবং সেগুলোর কোনোটিই তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নে জুনের মুদ্রাস্ফীতির দ্বিতীয় প্রাক্কলন প্রকাশিত হবে এবং প্রথম প্রাক্কলন থেকে এটির ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম। যুক্তরাজ্যে, আজ তেমন কোনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রকাশিত হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাউজিং স্টার্টস, বিল্ডিং পারমিট এবং কনজিউমার সেন্টিমেন্ট সূচক সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। উল্লিখিত সবগুলো প্রতিবেদনের মধ্যে, আমরা কেবল কনজিউমার সেন্টিমেন্ট সূচকটির কথাই বিশেষভাবে উল্লেখ করতে পারি, কারণ সূচকটির প্রকৃত ফলাফল পূর্বাভাসের তুলনায় ভিন্ন হলে তা মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

শুক্রবার তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট নির্ধারিত নেই। ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক বক্তৃতাগুলো থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, অন্তত পরবর্তী দুটি বৈঠকের জন্য মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থান কিছুটা শিথিল হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির হার ৪.২% থেকে কমে ৩.৫%-এ নেমে এসেছে, যা ফেডারেল রিজার্ভের হস্তক্ষেপ ছাড়াই আরও হ্রাসের আশা জাগিয়েছে। আগামী মাসগুলোতে, ফেড সম্ভবত মূল সুদের হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করবে না। এক্ষেত্রে, মার্কিন ডলার আরও একটি সহায়ক কারণ কমে যাবে। তবে, মুদ্রাস্ফীতির হার এবং ফেডের সিদ্ধান্ত মূলত জ্বালানি তেলের মূল্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ওপর নির্ভর করবে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট 'শর্তসাপেক্ষে ইতিবাচক' রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে; তবে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে, 'পারমাণবিক কর্মসূচী', লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর অবস্থা নিয়ে মতবিরোধ বজায় রয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে, ট্রেডাররা হয়তো আবারও পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছে, কিন্তু পুনরায় মার্কিন ডলারের মূল্যের সক্রিয় বৃদ্ধির জন্য এটি স্পষ্টতই যথেষ্ট নয়। সর্বোপরি, তেহরান ও ওয়াশিংটন আলোচনা প্রক্রিয়া থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসেনি। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতার প্রমাণ মিলছে। এখন আবারও হরমুজ প্রণালীর উপর অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শেষ দিনের ট্রেডিংয়ে, উভয় কারেন্সি পেয়ারের খুব মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে, কারণ আজ কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই। ইউরো 1.1461-1.1466 এরিয়া থেকে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে। ইউরোর মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়নি এবং এটি নতুন করে দরপতনের শিকার হতে বলে মনে হচ্ছে, অন্যদিকে গত তিন সপ্তাহ ধরে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলেও আজ এটির মূল্যের কারেকশন অব্যাহত থাকতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।