বিশ্লেষণী পর্যালোচনা

ফরেক্সমার্টের বিশ্লেষণী পর্যালোচনা ফরেক্স মার্কেটের সর্বশেষ টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ সরবরাহ করে। এই প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে স্টক মার্কেট প্রবণতা, আর্থিক পূর্বাভাস, বৈশ্বিক আর্থিক পর্যালোচনা এবং বাজারে প্রভাব বিস্তার করতে পারে এমন রাজনৈতিক সংবাদ।

Disclaimer:  ফরেক্সমার্ট বিনিয়োগের পরামর্শ দেয় না এবং সরবরাহিত বিশ্লেষণগুলি ভবিষ্যতের ফলাফলের প্রতিশ্রুতি হিসাবে গণ্য করা উচিত নয়

দিন দিন ডলারের প্রতি আস্থা কমছে
05:37 2026-01-28 UTC--5

গতকাল ডলার সূচক ২০২২ সালের পর থেকে প্রথমবারের মতো সর্বনিম্ন লেভেলে নেমে গিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে তিনি ডলারের সাম্প্রতিক দরপতনে স্বস্তি পাচ্ছেন, এরপরই এইরূপ পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে।

ডলারের দরপতন তাঁকে উদ্বিগ্ন করে কি না আয়ওয়ায় সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেছেন, "আমি মনে করি এটি ঠিক আছে। দেখুন আমরা কেমন ব্যবসা করছি। ডলার দারুণ করছে।"

ট্রাম্পের মন্তব্য সেই গভীর দরপতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে যা তাঁর বাণিজ্যযুদ্ধ এবং গত বছরে মার্কেটে অস্থিরতা সৃষ্টি করা শুল্ক আরোপের ফলে শুরু হয়েছিল। ট্রাম্পের অনিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরকে মার্কিন ডলারভিত্তিক অ্যাসেট থেকে সরে এসে বিকল্প ইনস্ট্রুমেন্টে বিনিয়োগ করতে প্ররোচিত করছে।

মূলত জাতীয় মুদ্রা নিয়ে মার্কিন সরকারের উদ্বেগ না থাকার এই বক্তব্যটি ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে, দুর্বল ডলার তাত্ত্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকে সহায়তা করে কারণ এর ফলে বিদেশে আমেরিকান পণ্যের দাম তুলনামূলক ভাবে কমে যাউ—এটি উৎপাদন কর্মকাণ্ড বাড়াতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে, ডলারের দুর্বলতা মার্কিন ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতাকে বিপন্ন করে তুলতে পারে কারণ এতে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য বাড়ে। কিছু বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন যে ডলারের দীর্ঘমেয়াদী দরপতন মার্কিন অর্থনীতির ওপর আস্থার ব্যাপক হ্রাস ঘটাতে পারে।

আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে মুদ্রানীতিগত অবস্থানের সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছে, যা মার্কেটে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক এখন অনুসন্ধান করছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন কি ডলারের আরও দরপতন মোকাবিলা করার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেবে, না কি অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের কৌশল অবলম্বন করবে—এটা ধরে নিয়ে যে রপ্তানি খাতভিত্তিক সুবিধাগুলো সম্ভাব্য ক্ষতির চেয়ে বেশি ফল দেবে।

এই বিষয়টি মনে রাখা দরকার যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বহুদিন ধরে অন্য দেশগুলোকে মার্কিন ডলারকে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল করার অভিযোগ করে আসছেন যাতে তারা রপ্তানি বাড়াতে পারে, এবং ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দর এবং রিজার্ভ মুদ্রা হিসাবে এর মানের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেছেন। ফলে, সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো ট্রেডাররা মূলত ডলার বিক্রির সবুজ সংকেত হিসেবে বিবেচনা করেছে।

গুরুত্বপূর্ণভাবে, ডলারের দরপতনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডেরও দরপতন হয়েছে এবং লভ্যাংশ বেড়েছে—যা আরও একটি সংকেত যে অন্যান্য দেশগুলো এখন মার্কিন বন্ড কেনার ব্যাপারে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

উপরোক্ত সবকিছুই বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের মতো নিরাপদ বিনিয়োগে বিনিয়োগ করতে বাধ্য করছে, যার ফলস্বরূপ স্বর্ণের মূল্য রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। মার্কেটের ট্রেডাররাও এমার্জিং-মার্কেট ফান্ডের মতো অ্যাসেটগুলোতে রেকর্ড গতিতে অর্থ বিনিয়োগ করছে, যা অনেক বিশ্লেষক 'নীরব প্রস্থানের' প্রবণতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন—অর্থাৎ মার্কিন ডলারভিত্তিক অ্যাসেট থেকে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

কারেন্সি মার্কেটেও ট্রাম্পের এই মন্তব্যের যথাযথ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

EUR/USD-এর টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ক্রেতাদের এখন এই পেয়ারের মূল্যকে 1.2030 লেভেলে নেওয়ার কথা ভাবতে হবে। কেবল তখনই এই পেয়ারের মূল্য 1.2080-এর লেভেলে পৌঁছাতে পারবে। সেখান থেকে 1.2140 পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বড় ট্রেডারদের সহায়তা ছাড়া তা করা কঠিন হবে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকার ক্ষেত্রে এই পেয়ারের মূল্য 1.2170-এ পৌঁছাতে পারে। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে, আমি কেবল মূল্য 1.1970-এর আশেপাশে থাকা অবস্থায় বড় ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা করব। যদি সেখানে ক্রেতারা সক্রিয় না হন, তাহলে এই পেয়ারের মূল্য 1.1935-এ নেমে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা বা 1.1900 থেকে লং পজিশন ওপেন করা উত্তম হবে।

GBP/USD-এর টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী পাউন্ডের ক্রেতাদের নিকটতম রেজিস্ট্যান্স 1.3820 ব্রেক করাতে হবে। কেবল তখনই এই পেয়ারের মূল্য 1.3865-এর দিকে যেতে পারবে; যেটি ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ কঠিন হবে। র্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকার ক্ষেত্রে এই পেয়ারের মূল্য 1.3910-এ পৌঁছাতে পারে। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে, মূল্য 1.3785-এর আশেপাশে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের জন্য গুরুতর আঘাত হবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3745-এ নেমে যেতে পারে, এবং পরবর্তী পর্যায়ে 1.3710 পর্যন্ত দরপতন প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

প্রতিক্রিয়া

ForexMart is authorized and regulated in various jurisdictions.

(Reg No.23071, IBC 2015) with a registered office at First Floor, SVG Teachers Co-operative Credit Union Limited Uptown Building, Corner of James and Middle Street, Kingstown, Saint Vincent and the Grenadines

Restricted Regions: the United States of America, North Korea, Sudan, Syria and some other regions.


aWS
© 2015-2026 Tradomart SV Ltd.
Top Top
ঝুঁকি সতর্কতা:
ফরেক্স এক্সচেঞ্জ অত্যন্ত অনুমানভিত্তিক এবং জটিল প্রকৃতির এবং এটি সকল বিনিয়োগকারীদের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। ফরেক্স ট্রেডিংয়ের ফলে লাভ বা ক্ষতি হতে পারে। অতএব, অর্থ হারালে আপনি যদি তার যোগান দিতে না পারেন তাহলে সেটি বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ফরেক্সমার্টের প্রদত্ত সেবাগুলো ব্যবহার করার আগে, দয়াকরে ফরেক্স ট্রেডিং সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে জানুন। প্রয়োজনে আর্থিক পরামর্শ নিন। দয়াকরে মনে রাখবেন যে অতীত অভিজ্ঞতা বা ভবিষ্যত পূর্বাভাস কোন কিছুই ভবিষ্যতের ফলাফলের নিশ্চয়তা প্রদান করে না।
ফরেক্স এক্সচেঞ্জ অত্যন্ত অনুমানভিত্তিক এবং জটিল প্রকৃতির এবং এটি সকল বিনিয়োগকারীদের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। ফরেক্স ট্রেডিংয়ের ফলে লাভ বা ক্ষতি হতে পারে। অতএব, অর্থ হারালে আপনি যদি তার যোগান দিতে না পারেন তাহলে সেটি বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ফরেক্সমার্টের প্রদত্ত সেবাগুলো ব্যবহার করার আগে, দয়াকরে ফরেক্স ট্রেডিং সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে জানুন। প্রয়োজনে আর্থিক পরামর্শ নিন। দয়াকরে মনে রাখবেন যে অতীত অভিজ্ঞতা বা ভবিষ্যত পূর্বাভাস কোন কিছুই ভবিষ্যতের ফলাফলের নিশ্চয়তা প্রদান করে না।