ভেনেজুয়েলা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলের মজুদসম্পন্ন দেশ হলেও, বিগত কয়েক বছরের নিষেধাজ্ঞা এবং বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে দেশটির তেল উৎপাদন নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তরের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে—দেশটিতে তেল উৎপাদন পুনরায় চালুর একটি সুযোগ তৈরি হবে, বিশেষ করে যদি এটি মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনায় অথবা তাদের অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে প্রধান মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে।

একদিকে, নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে বজায় রেখে ভেনেজুয়েলার উপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার মাধ্যমে ওয়াশিংটন দেশটির তেলক্ষেত্রগুলোতে বেছে বেছে প্রবেশাধিকার প্রদান এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের—যেমন রাশিয়া ও ইরানের—উপর চাপ প্রয়োগের একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এটি চলমান প্রতিযোগিতার মধ্যে বিশেষভাবে ভারী গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের শেয়ারের জন্য গুরুত্ব বহন করে। মধ্যমেয়াদে, যদি অন্য অঞ্চলগুলো থেকে সরবরাহ হঠাৎ হ্রাস না পায়, তাহলে ভেনেজুয়েলার উৎপাদন পুনর্বহাল এবং আংশিকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ বেড়ে যেতে পারে এবং এর ফলে তেলের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা সৃষ্টি হতে পারে।
ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ এবং এর লেনদেনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হওয়ার অর্থ হলো—বহুল ব্যবহৃত বাণিজ্য পণ্যগুলোর লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল মুদ্রা হিসেবে মার্কিন ডলারের অবস্থান আরও সুসংহত হবে, বিশেষ করে যদি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্ত হিসেবে মার্কিন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার (সুইফট, চুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং ইত্যাদি) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে ডলারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার ফলে ডলারের চাহিদা বাড়বে, পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেল খাত পুনর্গঠনের সঙ্গে জড়িত ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কর্মকাণ্ডেও মার্কিন ডলারের গুরুত্ব বাড়বে।

অন্যদিকে, সামরিক অভিযান এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে নিরাপদ অ্যাসেট যেমন মার্কিন ডলার এবং মার্কিন ট্রেজারিজের আকর্ষণ বাড়বে, যা স্বল্পমেয়াদে মার্কিন মুদ্রাকে শক্তিশালী করবে। তবে যারা আমদানি-নির্ভর অর্থনীতি পরিচালনা করে, তাদের জন্য শক্তিশালী ডলার ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ভূ-রাজনৈতিক সুবিধার যুগল প্রভাব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ায়, পাশাপাশি মার্কিন ডলারভিত্তিক বৈদেশিক ঋণের সেবাকরণ ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়।
ভেনেজুয়েলা যদি যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী শিবির থেকে সরে এসে সরাসরি মার্কিন প্রভাবাধীন অঞ্চলে চলে আসে, তাহলে দেশটির তেল লেনদেনে 'ডি-ডলারাইজেশনের' ঝুঁকি হ্রাস পাবে। একইসঙ্গে, বিকল্প লেনদেন কাঠামো—যেমন চীনা ইউয়ান বা রাশিয়ান রুবল ব্যবহার—করার ক্ষেত্রও সংকুচিত হয়ে পড়বে। দীর্ঘমেয়াদে, এটি 'পেট্রোডলার' ব্যবস্থার ভিত্তিকে আরও মজবুত করবে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিকারক দেশ এবং তাদের পরিবহন অবকাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববাজারে ডলারকে রিজার্ভ ও লেনদেনের প্রধান মুদ্রা হিসেবে সুদৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে।
তবে এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য—এই সামরিক অভিযানের মাত্রা এবং এটি বিশ্বের কাছে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে সম্পদসংক্রান্ত বিরোধ মেটানোর দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হলে—কিছু দেশ, যারা হয় আমদানিকারক, নয়তো রপ্তানিকারক, তারা তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত বৈচিত্র্যময় করতে ও ডলারের বিকল্প সন্ধানে তৎপর হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে দ্বৈত প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে: কৌশলগতভাবে ডলারের অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হলেও, দীর্ঘমেয়াদে ধাপে ধাপে ডলারের বিকল্প ব্যবহারের প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং তা 'ডি-ডলারাইজেশন' প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।